Friday, August 1, 2014

প্রেমপত্রঃ ৩

এতদিন যা যা বলেছি বা লিখেছি, সব বড়দের ব্যাপারস্যাপার। মানে আমি কামু বলতে একসময় যে মুখোপাধ্যায় বুঝতাম, আলবেয়ার নয়, সেটা আজকাল বেশ চেপে যেতে শিখেছি। তখনকার জীবন নিয়ে খুব বেশি কেউ জানতে চায় না, আমিও বলি না খুব একটা।

কিন্তু তাও, কিছু কিছু মুহূর্ত থাকে তো, যেগুলো না থাকলে বেঁচে থাকাটা বড্ড আলুনি হত, বা নুনপোড়া হত। মানে এইসব মুহূর্তগুলো না থাকলে সত্যি আমরা হয়ত আজকের আমরা হয়ে উঠতাম না।

তখন ক্লাস এইট। আমাদের স্কুল সরকারি। সুতরাং অদরকারি জিনিসপত্র সারাবছর হত। আমরা এইটেও সাদা কেডস পরে তালে তালে হাত-পা নাচিয়ে ব্যায়াম করতাম। এবং কেডস আর হাফপ্যান্ট সপ্তাহে একদিন লাগতো, কাজেই বছর বছর সেগুলো কিনে দেওয়াটা দরকার, সেটা বাড়ির লোকের মাথাতেই আসেনি। আমরা তাই ছোটো হয়ে যাওয়া টাইট কেডস পরতে বাধ্য হতাম। রোম না গ্রিস না চিন, কোথায় যেন একটা অপরাধীদের পায়ে ইস্ক্রুপ লাগানো জুতো পরিয়ে এঁটে দিয়ে শাস্তি দিত। তারাও আমাদের থেকে আরামে থাকত। আর হাফপ্যান্ট তো ছোটো হয়ে হয়ে পুনম পাণ্ডের স্কার্টের থেকেও ছোট হয়ে গেছিল। আর ছিল কর্মশিক্ষা। তাতে আমরা মাটির ক্যাপসিকাম ইত্যাদি কালজয়ী শিল্প বানিয়েছিলাম।

আমার এইটের কর্মশিক্ষা পরীক্ষার দিন ছিল সেটা। পরীক্ষা দিয়ে বেরচ্ছি, তখন আমার এক বন্ধু, আচমকা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তার আগে আমি ইংরিজি সাহিত্য, ক্লাসের লার্নিং ইংলিশ বাদ দিয়ে, কিচ্ছু পড়িনি। মানে আমার ভয় করত। জানতাম, কিচ্ছু বুঝবো না। কাজেই অনেকে অনেককিছু পড়তে বললেও ভয়ে ওধার মাড়াইনি।

তো আমার সেই বন্ধু, সেদিন বলেছিল হ্যারি পটার সিরিজের বইগুলোর কথা, বিশেষ করে অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স এর। আমি তখন সিনেমা দেখলেও বই পড়িনি। তো সে-ই সাহস দিয়ে বলল যে ওগুলো সোজা ইংরিজিতে লেখা, এবং পড়ে দিব্যি বোঝা যায়।

সেই শুরু। একমাসের মধ্যে প্রথম ৫ টা বই শেষ। তারপর পরের দুটোর জন্য দমবন্ধ অপেক্ষা। সিরিয়াস ব্ল্যাক কে আদর্শ মানুষ ভাবা (সেটা এখনো ভাবি, যতই স্নেপ ভালোমানুষ হয়ে উঠুন শেষে গিয়ে), ডাম্বেলডোরের মৃত্যু মানতে না পারা, ষষ্ঠ বই পড়ে হতাশ হওয়া, সপ্তম বইয়ের শেষ পাতা পড়ে শূন্যতা...............জীবন পাল্টে গেল।

সেই শুরু। সেই থেকে ভাষা আর অন্তরায় না। এখন তো সব পড়ি। পারলে হলুদ মলাটের চটি অবধি। ছাপার যোগ্য-অযোগ্য সব।

কিন্তু তুমি বলতেই পারো, এ আবার কিরকম প্রেমপত্র? এতে প্রেম কোথায়? গোটাটাই তো আমার স্মৃতিচারণ।

আসলে আমার ফেসবুক পাসওয়ার্ড আগে ছিল হ্যারি পটার সিরিজের কয়েকটা চরিত্রের নামে, আরও কিছু অক্ষরের সাথে। এখন সেই অক্ষরগুলো তাদের মতই আছে, শুধু চরিত্রের নামের জায়গায় তোমার নাম বসে গিয়েছে।

এ যদি প্রেম না হয়, তবে কোনটা প্রেম বলো?

No comments:

Post a Comment