Friday, August 1, 2014

কৈফিয়ত

ভালোবাসা ব্যাপারটা হেব্বি ঝামেলার।

ঝামেলার এই কারনেই, লোকে এটাকে প্রায়শই প্রেমের সাথে গুলিয়ে ফেলে। এবার প্রেম হল একটা দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। মানে তুমি রাজি-আমি রাজি-তোমারও থাকলো-আমারও থাকলো মার্কা ব্যাপার। এর সবথেকে কাছাকাছি জিনিসটা হল হাতিবাগান মার্কেটে ম্যাক্সি কেনা। মানে বাস্তবিকই, দু জায়গাতেই প্রবল দরদস্তুর চলে, আর তারপরেই হয় ম্যাক্সি বগলদাবা হয়, নয়ত পরের ক্রেতা আসে, এবং তাকেও বলা হয়-"শুধুমাত্র আপনার জন্যেই এই দাম দিদিভাই"।
এবার ভালোবাসার তো এই বেচাকেনা মার্কা দায় নেই। খানিক উইন্ডো শপিং মার্কা ব্যাপার। আমি দেখলাম, আমার ভালো লাগলো, কিন্তু তাকে বগলদাবা করতেই হবে, এ মাথার দিব্যি কেউ দিয়ে রাখেনি। সুতরাং সেখানে আবেগ ইত্যাদি অনেকটা খোলামেলা। তাই ব্যাপারটা অনেকক্ষেত্রেই নেহাত ভালোলাগাতেই আটকে যায়। তারপর আর এগোয় না। অবশ্য তার দায়ও থাকে না এগোনোর। এবং সেখানেই মূল পার্থক্য হয়ে যায় প্রেম আর ভালবাসার মধ্যে। প্রেম অনেক সংকীর্ণ, এবং তাই হয়তো তার পরিণতি আছে, সেটা ভালো হোক বা খারাপ। ভালোবাসাকে সেই পরিণতির খুপরিতে আটকে রাখা যায় না। তাই হয়তো ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট পরিণতি থাকা বা না থাকা ভালোবাসার থাকা বা না থাকাকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

কিন্তু না এগোলেও, বা পরিণতি না পেলেও এই ভালোবাসাগুলো কি হারিয়ে যায়? বা এদের হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত? কক্ষনও না। এরা ছিল বলেই না সেইসব দিনগুলোয় আমাদের হাতের মুঠোয় ধরা থাকত ঘামে ভেজা চিঠি। সে চিঠি কাউকে দিয়ে ওঠা হয়নি। সময় ছিল না হয়তো, বা সুযোগ ছিল না। কিম্বা নেহাতই ধক ছিল না বলে বুকপকেটের লাব-ডুব চিঠি বেয়ে পৌঁছতে পারেনি তার গন্তব্যে। এদের জন্যই বসন্ত শুধুমাত্র ওই বিশ্রী একটা রোগের বাংলা নাম হয়ে থাকেনি। বসন্তের যে শিরশিরানি, সে কি খালি ওই এক এক পশলা দমকা হাওয়ার জন্য? নাকি ওই শিরশিরানির পিছনে ছিল এমনই কোনো "বলতে চেয়েও না বলতে পারা" কথা? কি জানি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর এ ব্যাপারে কিছু স্পষ্ট করে জানায়নি কোনোদিন।

সেইসব টুকরো কথা, জমে থাকা রাগ, দুঃখ, অভিমান, ভালবাসা থেকে কিছু আপনমনে বকা প্রলাপ, কিছু সংলাপ, কিছু স্বগতোক্তি একজায়গায় জমিয়ে রাখার চেষ্টা শুরু করলাম এবার।

1 comment: